শুক্রবার, ২৯ নভেম্বর, ২০২৪

সংঘঠনের উপকারিতা।

 

সংঘঠনের উপকারিতা

সংঘঠন একটি গোষ্ঠী বা দল যেখানে মানুষ একত্রিত হয়ে কোনো নির্দিষ্ট লক্ষ্য অর্জনের জন্য কাজ করে। এটি ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য নানাভাবে উপকারী। নিচে সংঘঠনের কিছু গুরুত্বপূর্ণ উপকারিতা আলোচনা করা হলো:

★ একক প্রচেষ্টার পরিবর্তে সমষ্টিগত শক্তি

সংঘঠন ব্যক্তিদের একত্রে কাজ করার মাধ্যমে একক প্রচেষ্টাকে সমষ্টিগত শক্তিতে রূপান্তরিত করে। দলগত কাজের মাধ্যমে বড় এবং জটিল কাজ সহজে এবং দ্রুত সম্পন্ন করা সম্ভব হয়।

★ উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি

একটি সংগঠিত দল পরিকল্পনা মাফিক কাজ করে যা উৎপাদনশীলতা বাড়াতে সহায়ক। কাজের সুষ্ঠু বিভাজন এবং সঠিক নির্দেশনা থাকলে কাজের গুণগত মান বৃদ্ধি পায়।

★ সমস্যার কার্যকর সমাধান

সংঘঠনের সদস্যরা তাদের বিভিন্ন দক্ষতা এবং অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে সমস্যার কার্যকর সমাধান খুঁজে পেতে পারে। দলগত আলোচনার মাধ্যমে জটিল সমস্যাগুলোর জন্য কার্যকর সমাধান তৈরি করা সহজ হয়।



★ যোগাযোগ ও সমন্বয় বৃদ্ধি

সংঘঠন সদস্যদের মধ্যে যোগাযোগ ও সমন্বয় বাড়ায়। এটি কাজের অগ্রগতি নিরীক্ষা করা, মতামত ভাগাভাগি করা এবং যেকোনো সমস্যা দ্রুত সমাধান করতে সাহায্য করে।

★ বিকল্প মতামতের গ্রহণযোগ্যতা

দলগত পরিবেশে বিভিন্ন ব্যক্তির ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি ও মতামত গ্রহণ করার সুযোগ থাকে। এটি সৃজনশীল চিন্তার বিকাশ ঘটায় এবং নতুন নতুন সমাধান উদ্ভাবনে সহায়ক।

★ নেতৃত্বের বিকাশ

সংঘঠনের মাধ্যমে নেতৃত্বের গুণাবলি বিকশিত হয়। নেতৃত্বদানকারী ব্যক্তি কাজ পরিচালনা, সমস্যা সমাধান এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা অর্জন করে, যা ভবিষ্যতের জন্য তার দক্ষতা বৃদ্ধি করে।

★ সামাজিক সংহতি ও বন্ধন

সংঘঠনের মাধ্যমে সদস্যদের মধ্যে পারস্পরিক বিশ্বাস ও বন্ধুত্বের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এটি সামাজিক সংহতি বাড়ায় এবং সদস্যদের একে অপরের প্রতি সহযোগিতার মনোভাব গড়ে তোলে।

★ উন্নয়ন ও পরিবর্তনের উৎস

সংঘঠন একটি সমাজ বা রাষ্ট্রের উন্নয়ন ও পরিবর্তনের অন্যতম প্রধান মাধ্যম। এটি সামাজিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক পরিবর্তন আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

সাধারণ স্বার্থে কাজ করার সুযোগ

সংঘঠন সাধারণ মানুষের কল্যাণে কাজ করার সুযোগ সৃষ্টি করে। এটি সমাজের দুর্বল ও অবহেলিত শ্রেণির উন্নতিতে সাহায্য করে এবং সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য অবদান রাখে।

এ ছাড়া ও আরও অনেক ধরনের সমস্যা সমাধানে সংগঠনের ভুমিকা অপরিহার্য। 

সংঘঠন কেবলমাত্র ব্যক্তিদের জন্য নয়, পুরো সমাজ এবং রাষ্ট্রের জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। এটি দলগত শক্তি ও সহযোগিতার মাধ্যমে যে কোনো লক্ষ্য অর্জন করতে পারে। সংঘঠনের সঠিক পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে ব্যক্তি ও সমাজের উন্নয়ন নিশ্চিত করা সম্ভব। যে কোনু ব্যবসা বানিজ্য করতে একক ভাবে মুলধন যোগাড় করা যতটা কঠিন সম্মিলিত প্রচেস্টায় সেই কাজ ততটা সহজ।

বুধবার, ২০ নভেম্বর, ২০২৪

সময়

 আমাদের জীবনের সব চেয়ে বেশি মুল্যবান বস্তু কি? উত্তর টা সবার ই জানা।তবে প্রত্যেক মানুষ তার নিজস্ব চিন্তা চেতনা থেকে আলাদা উত্তর দিবে।কথা টা আমার ব্যাক্তিগত মত।আর এই টা ই ঠিক। বিশ্বাস না হলে আপনি কয়েক জনের কাছে প্রশ্ন করে মিলিয়ে দেখতে পারেন। কিন্তু এই প্রশ্নের সঠিক উত্তর একটা ই হবে।বাকি সব ভুল। মানুষের জীবনের সব চেয়ে মুল্যবান বস্তু বা সম্পদ হচ্ছে সময়। আর এই সময় কে বিনা মূল্যে আপনার আমার সবাই আল্লাহ সুবহানাল্লাহ তায়ালা ফ্রী দান করেছেন।আবার তিনি ই এই সময়ের শপথ করে বলেছেন মানুষ ক্ষতির মধ্যে নিমজ্জিত। আর যে বাক্যের আগে বলেছেন সে বাক্যটি ই হলো সময়ের কছম।

 এখন আমরা সাধারণ জ্ঞ্যানের আলোকে যদি চিন্তা করি।তা হলে ধরে নিতে হবে যে আমরা সকলে ই সময় নিয়ে ক্ষতির মধ্যে নিমজ্জিত। দুনিয়ার প্রত্যেক টা মানুষ কে যদি প্রশ্ন করা হয় আপনি সময় কে কি ভাবে ব্যাবহার করেন? উত্তরে কেউই পরিপূর্ণ ভাবে নিজের জীবনের সব গুলো সময় কে ব্যাবহার করতে পেরেছে এমন উত্তর আশা করি কেউ দিতে পারবে না। তথ্য প্রজুক্তি আর স্মার্ট ডিভাইস এর সাথে আমরা এখন যে ভাবে লেগে আছি তার জন্য তো সময়ের অপচয় এখন কি ভাবে যে করছি তা লিখে শেষ করা কঠিন। 

কিছু অভ্যাস এর কথা তুলে ধরছি। আপনি বা আমি যে কেউ যখন মোবাইল হাতে নেই তখন প্রথমে ই স্যোস্যাল নেটওয়ার্ক এর যে কোনো সাইটে প্রবেশ করি।তার পরে স্ক্রল করা শুরু হয়। কয়েক সেকেন্ড সময় এর মধ্যে ই যে কোনো একটা রিল/ভিডিও /স্ক্রিপ্ট কোনো একটার মধ্যে চোখ আটকে যায়। শুরু করি দেখা বা পড়া। এর সাথে সাথে ভুলে যাই মোবাইল টা হাতে নেওয়ার আগে আমি কি কাজে ব্যাস্ত ছিলাম। আর সেই ভুলে যাওয়ায় মোবাইলের স্ক্রলিং চলতেই থাকে। কখন যে সাভাবিক অবস্তায় ফিরে আসা হয় তা সকলের ই থাকে অজানা। এই প্রেক্ষাপট আমাদের সবার কাছে ই পরিচিত। 



 সময়ের অপব্যবহার করে যে ধরনের ক্ষতির সম্মুখিন হচ্ছি তার সামান্য কিছু তুলে ধরছি। 

সময় মানুষের জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ। কারণ হারিয়ে যাওয়া অর্থ, সম্পদ বা যেকোনো বস্তু হয়তো ফিরে পাওয়া যায়, কিন্তু হারিয়ে যাওয়া সময় আর কখনোই ফিরে আসে না। এই মূল্যবান সময়কে সঠিকভাবে কাজে না লাগালে জীবনে সফলতা অর্জন করা অসম্ভব।

আজকাল অনেকেই অপ্রয়োজনীয় কাজে, অলসতায়, সামাজিক মাধ্যমে অতিরিক্ত সময় ব্যয় করে, যার ফলে পড়াশোনা, কাজ কিংবা দায়িত্ব পালনে ঘাটতি পড়ে। সময়ের এমন অপব্যবহার ধীরে ধীরে মানুষকে ব্যর্থতার দিকে ঠেলে দেয়।

একজন সচেতন মানুষ সবসময় নিজের সময়ের সঠিক ব্যবহার জানে। প্রতিদিনের কাজের তালিকা তৈরি করে, অপ্রয়োজনীয় কাজ এড়িয়ে চলে এবং গুরুত্বপূর্ণ কাজে মনোযোগ দেয়।

সময়ের অপব্যবহার আমাদের ব্যক্তিগত জীবন, পড়াশোনা এবং ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ারের উপর বিরূপ প্রভাব ফেলে। তাই এখন থেকেই সময়ের মূল্য বুঝে সঠিক পরিকল্পনায় চলা উচিত। মনে রাখতে হবে — ‘সময় কারও জন্য অপেক্ষা করে না।’

যারা সময়কে সঠিকভাবে কাজে লাগায়, তারাই ভবিষ্যতে সফলতার শিখরে পৌঁছায়। তাই সময়ের অপব্যবহার পরিহার করে জীবনকে সঠিক পথে এগিয়ে নিতে হবে।