বুধবার, ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫

বাংলাদেশ আউটসোর্সিং কর্মচারী ঐক্য পরিষদ, বিস্তারিত।

আমার একটি ফেসবুক পোস্টে বলেছিলাম যে, ধারাবাহিকভাবে আমাদের আউটসোর্সিং সংগঠন ও আন্দোলনের বিস্তারিত তুলে ধরবো। তবে বিষয়টি অনেক বড় হয়ে যেতে পারে, এবং সে ধারাবাহিক ভাবে লিখা গুলো সবার পড়া না ও হতে পারে। তাই  সংক্ষেপে কিছু গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরছি।

সারা বাংলাদেশের সরকারি আধা সরকারি ও সায়ত্বশাসিত প্রতিস্টান গুলোতে (আউটসোর্সিং নীতিমালা ২০১৮) এর আওতায় আউটসোর্সিং দৈনিক মজুরি ভিত্তিক ও প্রকল্পে কর্মরতদের নিয়ে গড়ে তুলা এই সংগঠনের মূল লক্ষ্ ছিল।

অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম

একজন নাগরিক হিসেবে আমাদের অধিকার প্রতিষ্ঠা নিশ্চিত করাই হলো সভ্য সমাজ গঠনের অন্যতম প্রধান শর্ত। প্রতিটি মানুষের মর্যাদা, সম্মান, ও ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার রয়েছে, যা কেবল আইনের মাধ্যমে নয়, সচেতন ও সংগঠিত আন্দোলনের মাধ্যমেও অর্জন করা সম্ভব।

শ্রমজীবী মানুষের স্বীকৃতি পাওয়া তাদের ন্যায্য অধিকার। একজন শ্রমিক তার শ্রম, মেধা ও পরিশ্রম দিয়ে সমাজের ও দেশের অগ্রগতিতে অবদান রাখে। অথচ আউটসোর্সিং দৈনিক মজুরি ভিত্তিক ও প্রকল্পে কর্মরতদের সকল ক্ষেত্রেই শ্রমিকরা তাদের প্রাপ্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হন। উপযুক্ত মজুরি, কর্মপরিবেশ, নিরাপত্তা এবং মৌলিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা শ্রমিকদের প্রাপ্য, কিন্তু আমরা তা পাই না।

অন্যায়, অবিচার ও শোষণের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো প্রতিটি সচেতন নাগরিকের দায়িত্ব। ইতিহাস সাক্ষী, কোনো অধিকার স্বতঃস্ফূর্তভাবে পাওয়া যায় না; তা অর্জন করে নিতে হয়। সমাজে বিদ্যমান বৈষম্য, নির্যাতন ও শোষণের বিরুদ্ধে নিরবতা মানেই অন্যায়ের সঙ্গে আপস করা। তাই, আমাদের উচিত সাহসের সঙ্গে অন্যায়ের বিরুদ্ধে আওয়াজ তোলা, প্রতিবাদ করা এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে এগিয়ে যাওয়া।

সমাজ পরিবর্তন তখনই সম্ভব, যখন মানুষ সচেতন হবে, অন্যায়ের বিরুদ্ধে সংগঠিত হবে এবং নিজেদের ন্যায্য দাবির জন্য লড়াই করবে। তাই  আমরা ঐক্যবদ্ধ হই, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় সোচ্চার হই, এবং নিজেদের অধিকার রক্ষার জন্য নিরলস সংগ্রাম চালিয়ে যাই।

 [স্বাধিনতা আউটসোর্সিং কর্মচারী কল্যান পরিষদ] সংগঠনের নাম দিয়ে যাত্রা শুরু হয় ২০২০ সালে। সবাই বিশ্বাস করি, একতাবদ্ধ প্রচেষ্টা ও সচেতনতার মাধ্যমে আমরা সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারবো।

আমাদের আন্দোলন শুরু হয়েছিল [২০২০ সাল] থেকে, এবং তখন থেকেই সবাই নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছিল।[একটা সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে কার্যক্রম শুরু হয়]। বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েও সবাই এগিয়ে চলেছে। কারণ সবার  সাথে ছিল আপনাদের মতো সচেতন ও প্রতিশ্রুতিবদ্ধ মানুষ। 

আগামী দিনে সবার লক্ষ্য ছিল [আউটসোর্সিং নীতিমালা ২০১৮ বাতিল করে ঠিকাদার বাদ দিয়ে, স্ব স্ব প্রতিস্টানে বয়স শীতিল করে চাকরির নিরাপত্তা মাতৃত্বকালিন ছুটি সহ শ্রমআইনের সকল সুবিদা নিশ্চিত করা ]। সকলের চাওয়া ছিল, আপনাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও সমর্থন আমাদের এই যাত্রাকে আরও শক্তিশালী হবে।

সবাইকে পাশে থাকার আহ্বান জানিয়ে একসাথে এগিয়ে চলার শুরু। ✊

শুরুতে সময় টা বেশ কঠিন ছিল। রাজনৈতিক আমলাতান্ত্রিক আইনি এবং সকলের অংশগ্রহন নিশ্চিত করাটা বেশ চ্যালেঞ্জের ছিল।

প্রতিস্টালগ্নে যে সকল ভাই বোনের মেধা শ্রম অর্থ সময় ব্যায়ের মাধ্যমে আজকের এই বিশাল আউটসোর্সিং কর্মচারী জনবলের পরিবার তাদের প্রতি আমাদের সকলের ই কৃতজ্ঞতা শ্রদ্বা ভালোবাসা সব সময়। 

তাদের মধ্যে অন্যতম"""""

মুকুল চন্দ্র দেবনাথ/মোঃ জীবন/এস এম শিশির/মাহবুবুর রহমান আনিস/আল ইমরান মুন্না/মোঃ খলিল হাওলাদার/ জিল্লুর রহমান/মুজিবুর রহমান/ রমজান আলি টিটু/ নুরুন্নাহার/হাবিব সোহেল/জহুরুল ইসলাম/রাজু/মোঃ সেলিম,""""""সহ আর ও অনেক শ্রদ্বাভাজন ব্যক্তিত্ব। সবার নাম আমার জানা নেই বলে লেখতে পারছি না। তার জন্য ক্ষমা প্রার্থী। 

২০২৪ জুলাই/আগস্ট ছাত্র জনতার আন্দোলন ও গনুঅভুত্যান পরবর্তী ১৭ আগস্টের আমাদের আন্দোলন সংগ্রাম যা এখন ও চলমান আছে। এবং রফিকুল ইসলামের নাম না লিখার কারন হচ্ছে প্রতিস্টা লগ্নে তিনি ছিলেন না। এবং ১৯ অক্টোবর পরবর্তী আমাদের আন্দোলনের গতিবিধির লক্ষ্যব্রস্টের কারনে তার সঠিক পথে ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে কাজ করতে ,শাহাদাত ভাই/ আজাদ হীরা / উত্তম দাদা / সোহেল রানা / সাফিউল ইসলাম উজ্জ্বল এবং আমি সহ অনেকে ই নানান ভাবে চেস্টা চালাই। 

সে চেস্টার ফলশ্রুতিতে চলমান আন্দোলন গতি ফিরে পায়।কল্যান পরিষদের ব্যানারে করতে গিয়ে বাধাগ্রস্ত হতে হয় আমাদের সহজোদ্বাদের থেকে। শ্রমসংস্কার কমিশনের সাথে আমরা কল্যান পরিষদের  ব্যানারে ই মতবিনিময় সভা করি। একটা মানব বন্দ্বন করতে গিয়ে আমাদেরকে থানায় জিডির মোকাবিলা করতে হয়। এর বাহিরের অনেক গল্প সারাদেশের সকল আউটসোর্সিং দৈনিক মজুরি ভিত্তিক ও প্রকল্পে কর্মরতদের জানা থাকার কথা।

শেষ পর্যন্ত উপায়ন্তর না দেখে কাউকে প্রতিপক্ষ চিন্তা না করে ২০২৫ ইংরেজী জানুয়ারির প্রথমে ই, বাংলাদেশ আউটসোর্সিং কর্মচারী ঐক্য পরিষদ নামে সাংগঠনিক কার্যক্রম শুরু করি। এই সংগঠনের কোনু পদ কেউ চেয়ে নিতে পারেন নি। প্রত্যেকে তার যোগ্যতা ও জনসমর্থনের ভিত্তিতে ই নেত্রিত্ব পেয়েছেন। তার আলোকে ই আমরা কমিটি গঠন করি।

বাংলাদেশ আউটসোর্সিং কর্মচারী ঐক্য পরিষদ কোনু সংগঠনের প্রতিপক্ষ নয়।সারাদেশের সকল আউটসোর্সিং দৈনিক মজুরি ভিত্তিক ও প্রকল্পে কর্মরতদের দাবীর পক্ষে ই কাজ করবে।অন্য যে কোনো সংগঠন আমাদের দাবীর স্ব পক্ষে প্রোগ্রাম আয়োজনে সমর্থন ও অংশগ্রহণ থাকবে।রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্তের মধ্যে আমরা কোনু ভুল খুজে পাই নি। আর আমাদের দাবীর স্ব পক্ষে তার জোরালো অবস্থান লক্ষ করছি।

স্বাধিনতা আউটসোর্সিং কর্মচারী কল্যাণ পরিষদ এবং পরবর্তীতে বাংলাদেশ আউটসোর্সিং কর্মচারী কল্যাণ পরিষদের সাথে রফিকুল ইসলামের সম্পর্ক ত্যাগ পরিশ্রম ব্যায় এবং বিগত দিনের যে কোনু প্রোগ্রাম সফলের ক্ষেত্রে লোকবল সহ উপস্থিতির কথা প্রতিস্টালগ্নের থেকে সম্পৃক্ত সিনিয়র ভাইয়েদের বিভেকের কাছে ছেড়ে দিলাম।

আপনারা ই নিজ দায়িত্বে সত্য টা প্রচার করবেন আশা করছি। আর আমার এই পুরো লেখা টা কষ্ট করে পড়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।

আর পুরোটা না পড়ে মন্তব্য থেকে বিরত থাকতে অনুরুধ করছি। 





শুক্রবার, ৬ ডিসেম্বর, ২০২৪

অন্ধ বিশ্বাসের পরিণাম

 

না বুঝে কাউকে বিশ্বাস করার ফল

শিরোনাম: 

অন্ধ বিশ্বাসের পরিণাম

পটভূমি: একটি ছোট শহরের একটি তরুণের জীবন, যেখানে সে ভুল মানুষকে বিশ্বাস করে বড় ধরনের সমস্যায় পড়ে।

 : বন্ধুত্বের শুরু

(একটি কলেজ ক্যাম্পাস। অয়ন রাফি মাঠে বসে কথা বলছে।)

অয়ন: (হাসতে হাসতে) রাফি ভাই, আপনার সঙ্গে কথা বলে মনে হচ্ছে আপনি খুবই বিশ্বস্ত মানুষ।
রাফি: (কৌশলী হাসি) আরে ভাই, আমিতো সবাইকে সাহায্য করতে ভালোবাসি। তুমি যদি আমার সাথে থাকো, জীবনে কোনো ঝামেলায় পড়বে না।
অয়ন: (বিশ্বাসী চেহারা) তাহলে তো আপনার সঙ্গেই থাকতে চাই।

(রাফি তার দুষ্ট পরিকল্পনার ইঙ্গিত দেয়।)

 : বিশ্বাসের পব্যবহার

(একটি কফি শপ। রাফি অয়নকে একটি প্রস্তাব দিচ্ছে।)

রাফি: শোনো অয়ন, আমার এক বন্ধু একটু সমস্যায় আছে। তুমি যদি তোমার বাবার জমি বিক্রির টাকা আমাকে দাও, আমি তাকে সাহায্য করে তোমাকে দ্বিগুণ ফেরত দেব।
অয়ন: (একটু চিন্তিত হয়ে) এটা কি সঠিক হবে, ভাই?
রাফি: আরে, তোমার ভাই আছি না? আমি কি তোমার ক্ষতি করবো?

(অয়ন সরল বিশ্বাসে রাজি হয়ে যায়।)

 : বিশ্বাস ভাঙার পরিণতি

(দুই মাস পর। অয়ন রাফির বাড়ির সামনে এসে চিৎকার করছে।)

অয়ন: (বাক্রুদ্ধ) রাফি ভাই! আমার টাকা কই? আপনি বলেছিলেন দুই সপ্তাহে ফেরত দেবেন।
রাফি: (উদাসীন ভঙ্গি) আরে ভাই, কী বলছো? আমি কি এমন কিছু বলেছিলাম?
অয়ন: (অবাক হয়ে) আপনি মিথ্যে বলছেন! আমি আপনাকে বিশ্বাস করেছিলাম।
রাফি: (হাসতে হাসতে) জীবনে একটা শিক্ষা পেলা। কাউকে অন্ধভাবে বিশ্বাস করো না।

 

দৃশ্য : অনুশোচনা শিক্ষা

(অয়ন তার বাবার সঙ্গে বসে কথা বলছে।)

অয়ন: বাবা, আমি ভুল করেছি। রাফির মতো মানুষের ওপর এত দ্রুত বিশ্বাস করা উচিত হয়নি।
বাবা: (মাথা নাড়িয়ে) হ্যাঁ, ছেলেমানুষি করতে গিয়ে তুমি বড় শিক্ষা পেয়েছ। জীবনে বুঝে-শুনে বিশ্বাস করতে হয়। অভিজ্ঞতা মানুষকে বাঁচতে শেখায়।

অয়ন মনে মনে প্রতিজ্ঞা করে যে আর কখনো এমন ভুল করবে না।


শেষের অংশ:

অয়ন অন্যদের সঙ্গে তার অভিজ্ঞতা শেয়ার করে তাদের সচেতন করার চেষ্টা করছে।

অয়ন: (প্রবক্তা হিসেবে) বন্ধুরা, জীবনে কাউকে বিশ্বাস করার আগে তার পেছনের উদ্দেশ্যটা বুঝে নাও। অন্ধবিশ্বাস তোমার সবকিছু ধ্বংস করে দিতে পারে।

মোরাল: জীবনকে সঠিক পথে রাখতে হলে বিশ্বাস করতে হয়, কিন্তু তার আগে সেই বিশ্বাস যোগ্য কি না তা যাচাই করতে হয়।



শুক্রবার, ২৯ নভেম্বর, ২০২৪

সংঘঠনের উপকারিতা।

 

সংঘঠনের উপকারিতা

সংঘঠন একটি গোষ্ঠী বা দল যেখানে মানুষ একত্রিত হয়ে কোনো নির্দিষ্ট লক্ষ্য অর্জনের জন্য কাজ করে। এটি ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য নানাভাবে উপকারী। নিচে সংঘঠনের কিছু গুরুত্বপূর্ণ উপকারিতা আলোচনা করা হলো:

★ একক প্রচেষ্টার পরিবর্তে সমষ্টিগত শক্তি

সংঘঠন ব্যক্তিদের একত্রে কাজ করার মাধ্যমে একক প্রচেষ্টাকে সমষ্টিগত শক্তিতে রূপান্তরিত করে। দলগত কাজের মাধ্যমে বড় এবং জটিল কাজ সহজে এবং দ্রুত সম্পন্ন করা সম্ভব হয়।

★ উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি

একটি সংগঠিত দল পরিকল্পনা মাফিক কাজ করে যা উৎপাদনশীলতা বাড়াতে সহায়ক। কাজের সুষ্ঠু বিভাজন এবং সঠিক নির্দেশনা থাকলে কাজের গুণগত মান বৃদ্ধি পায়।

★ সমস্যার কার্যকর সমাধান

সংঘঠনের সদস্যরা তাদের বিভিন্ন দক্ষতা এবং অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে সমস্যার কার্যকর সমাধান খুঁজে পেতে পারে। দলগত আলোচনার মাধ্যমে জটিল সমস্যাগুলোর জন্য কার্যকর সমাধান তৈরি করা সহজ হয়।



★ যোগাযোগ ও সমন্বয় বৃদ্ধি

সংঘঠন সদস্যদের মধ্যে যোগাযোগ ও সমন্বয় বাড়ায়। এটি কাজের অগ্রগতি নিরীক্ষা করা, মতামত ভাগাভাগি করা এবং যেকোনো সমস্যা দ্রুত সমাধান করতে সাহায্য করে।

★ বিকল্প মতামতের গ্রহণযোগ্যতা

দলগত পরিবেশে বিভিন্ন ব্যক্তির ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি ও মতামত গ্রহণ করার সুযোগ থাকে। এটি সৃজনশীল চিন্তার বিকাশ ঘটায় এবং নতুন নতুন সমাধান উদ্ভাবনে সহায়ক।

★ নেতৃত্বের বিকাশ

সংঘঠনের মাধ্যমে নেতৃত্বের গুণাবলি বিকশিত হয়। নেতৃত্বদানকারী ব্যক্তি কাজ পরিচালনা, সমস্যা সমাধান এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা অর্জন করে, যা ভবিষ্যতের জন্য তার দক্ষতা বৃদ্ধি করে।

★ সামাজিক সংহতি ও বন্ধন

সংঘঠনের মাধ্যমে সদস্যদের মধ্যে পারস্পরিক বিশ্বাস ও বন্ধুত্বের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এটি সামাজিক সংহতি বাড়ায় এবং সদস্যদের একে অপরের প্রতি সহযোগিতার মনোভাব গড়ে তোলে।

★ উন্নয়ন ও পরিবর্তনের উৎস

সংঘঠন একটি সমাজ বা রাষ্ট্রের উন্নয়ন ও পরিবর্তনের অন্যতম প্রধান মাধ্যম। এটি সামাজিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক পরিবর্তন আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

সাধারণ স্বার্থে কাজ করার সুযোগ

সংঘঠন সাধারণ মানুষের কল্যাণে কাজ করার সুযোগ সৃষ্টি করে। এটি সমাজের দুর্বল ও অবহেলিত শ্রেণির উন্নতিতে সাহায্য করে এবং সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য অবদান রাখে।

এ ছাড়া ও আরও অনেক ধরনের সমস্যা সমাধানে সংগঠনের ভুমিকা অপরিহার্য। 

সংঘঠন কেবলমাত্র ব্যক্তিদের জন্য নয়, পুরো সমাজ এবং রাষ্ট্রের জন্যও একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। এটি দলগত শক্তি ও সহযোগিতার মাধ্যমে যে কোনো লক্ষ্য অর্জন করতে পারে। সংঘঠনের সঠিক পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে ব্যক্তি ও সমাজের উন্নয়ন নিশ্চিত করা সম্ভব। যে কোনু ব্যবসা বানিজ্য করতে একক ভাবে মুলধন যোগাড় করা যতটা কঠিন সম্মিলিত প্রচেস্টায় সেই কাজ ততটা সহজ।

বুধবার, ২০ নভেম্বর, ২০২৪

সময়

 আমাদের জীবনের সব চেয়ে বেশি মুল্যবান বস্তু কি? উত্তর টা সবার ই জানা।তবে প্রত্যেক মানুষ তার নিজস্ব চিন্তা চেতনা থেকে আলাদা উত্তর দিবে।কথা টা আমার ব্যাক্তিগত মত।আর এই টা ই ঠিক। বিশ্বাস না হলে আপনি কয়েক জনের কাছে প্রশ্ন করে মিলিয়ে দেখতে পারেন। কিন্তু এই প্রশ্নের সঠিক উত্তর একটা ই হবে।বাকি সব ভুল। মানুষের জীবনের সব চেয়ে মুল্যবান বস্তু বা সম্পদ হচ্ছে সময়। আর এই সময় কে বিনা মূল্যে আপনার আমার সবাই আল্লাহ সুবহানাল্লাহ তায়ালা ফ্রী দান করেছেন।আবার তিনি ই এই সময়ের শপথ করে বলেছেন মানুষ ক্ষতির মধ্যে নিমজ্জিত। আর যে বাক্যের আগে বলেছেন সে বাক্যটি ই হলো সময়ের কছম।

 এখন আমরা সাধারণ জ্ঞ্যানের আলোকে যদি চিন্তা করি।তা হলে ধরে নিতে হবে যে আমরা সকলে ই সময় নিয়ে ক্ষতির মধ্যে নিমজ্জিত। দুনিয়ার প্রত্যেক টা মানুষ কে যদি প্রশ্ন করা হয় আপনি সময় কে কি ভাবে ব্যাবহার করেন? উত্তরে কেউই পরিপূর্ণ ভাবে নিজের জীবনের সব গুলো সময় কে ব্যাবহার করতে পেরেছে এমন উত্তর আশা করি কেউ দিতে পারবে না। তথ্য প্রজুক্তি আর স্মার্ট ডিভাইস এর সাথে আমরা এখন যে ভাবে লেগে আছি তার জন্য তো সময়ের অপচয় এখন কি ভাবে যে করছি তা লিখে শেষ করা কঠিন। 

কিছু অভ্যাস এর কথা তুলে ধরছি। আপনি বা আমি যে কেউ যখন মোবাইল হাতে নেই তখন প্রথমে ই স্যোস্যাল নেটওয়ার্ক এর যে কোনো সাইটে প্রবেশ করি।তার পরে স্ক্রল করা শুরু হয়। কয়েক সেকেন্ড সময় এর মধ্যে ই যে কোনো একটা রিল/ভিডিও /স্ক্রিপ্ট কোনো একটার মধ্যে চোখ আটকে যায়। শুরু করি দেখা বা পড়া। এর সাথে সাথে ভুলে যাই মোবাইল টা হাতে নেওয়ার আগে আমি কি কাজে ব্যাস্ত ছিলাম। আর সেই ভুলে যাওয়ায় মোবাইলের স্ক্রলিং চলতেই থাকে। কখন যে সাভাবিক অবস্তায় ফিরে আসা হয় তা সকলের ই থাকে অজানা। এই প্রেক্ষাপট আমাদের সবার কাছে ই পরিচিত। 



 সময়ের অপব্যবহার করে যে ধরনের ক্ষতির সম্মুখিন হচ্ছি তার সামান্য কিছু তুলে ধরছি। 

সময় মানুষের জীবনের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ। কারণ হারিয়ে যাওয়া অর্থ, সম্পদ বা যেকোনো বস্তু হয়তো ফিরে পাওয়া যায়, কিন্তু হারিয়ে যাওয়া সময় আর কখনোই ফিরে আসে না। এই মূল্যবান সময়কে সঠিকভাবে কাজে না লাগালে জীবনে সফলতা অর্জন করা অসম্ভব।

আজকাল অনেকেই অপ্রয়োজনীয় কাজে, অলসতায়, সামাজিক মাধ্যমে অতিরিক্ত সময় ব্যয় করে, যার ফলে পড়াশোনা, কাজ কিংবা দায়িত্ব পালনে ঘাটতি পড়ে। সময়ের এমন অপব্যবহার ধীরে ধীরে মানুষকে ব্যর্থতার দিকে ঠেলে দেয়।

একজন সচেতন মানুষ সবসময় নিজের সময়ের সঠিক ব্যবহার জানে। প্রতিদিনের কাজের তালিকা তৈরি করে, অপ্রয়োজনীয় কাজ এড়িয়ে চলে এবং গুরুত্বপূর্ণ কাজে মনোযোগ দেয়।

সময়ের অপব্যবহার আমাদের ব্যক্তিগত জীবন, পড়াশোনা এবং ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ারের উপর বিরূপ প্রভাব ফেলে। তাই এখন থেকেই সময়ের মূল্য বুঝে সঠিক পরিকল্পনায় চলা উচিত। মনে রাখতে হবে — ‘সময় কারও জন্য অপেক্ষা করে না।’

যারা সময়কে সঠিকভাবে কাজে লাগায়, তারাই ভবিষ্যতে সফলতার শিখরে পৌঁছায়। তাই সময়ের অপব্যবহার পরিহার করে জীবনকে সঠিক পথে এগিয়ে নিতে হবে।

সোমবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৪

স্বাধীনতা ২.০

 সম্মানিত পাঠক আসসালামু আলাইকুম ও রহমতুল্লাহ। 

জুলাই আগস্ট ২০২৪ ছাত্র জনতার গন আন্দোলনের মুখে ভারতে পালিয়ে যান সাবেক প্রধান মন্ত্রি

শেখ হাসিনা। বিগত ১৫ বছরের ও বেশি সময় ধরে ক্ষমতায় থাকা এই নারি এভাবে দেশ ছেড়ে পালাবেন

এই কথা ভাবা ত দূরে থাক আমরা কেউ স্বপ্নে ও দেখিনি। দেশের প্রশাসনের কেন্দ্র বিন্দু বাংলাদেশ সচিবালয়ে কর্মরত থাকার সুবাধে খুব কাছে থেকে দেখে ই কথা গুলো লিখছি। ৪ আগস্ট রোজ রবি বার সন্দ্যার পরে ও তখন আমি অফিসে। সচিবালয়ের বিল্ডিং গুলোতে ১৫ আগস্টের শোক দিবসের উপলক্ষে বিশাল বিশাল ব্যানার ফেস্টুন লাগানো হচ্ছে। এই বেনার ফেস্টুন লাগানো টা নতুন ছিল না। এই কাজ গুলো ছিল গত ১৫ বছরের নিয়মিত রুটিন। প্রত্যেক বছর আগস্ট মাস শুরু হলে পরে প্রত্যেক মন্ত্রনালের প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের কাছে খুব গুরুত্ব পূর্ণ কাজ হিসাবে এই ব্যানার  প্রদর্শনী ছিল। তাদের এই কাজের ক্ষেত্রে খুব দায়িত্বশীল এবং আন্তরিকতা দেখেছি। কিন্তু তাদের নিজের অফিসের কাজের জন্য এতটা দায়িত্ব নিয়ে কাজ করতে দেখিনি।প্রত্যেক মন্ত্রণালয়ের উদ্দেশ্য থাকে আগস্টের শোক দিবস নিয়ে কতটা সুন্দর ভাবে প্রদর্শনী ফুটিয়ে তোলা যায় সে প্রতিজোগিতা।

৫ আগস্টে শেখ হাসিনার পালানো এবং ছাত্র জনতার অবিস্মরণীয় বিজয় হবার পরে বংগভবন সহ দেশের সকল গুরুত্বপূর্ণ স্তাপনায় জনগণ প্রবেশ করলেও সচিবালয়ে কেউ প্রবেশ করে নি।নিরাপত্তার দ্বায়িত্বে থাকা সেনাবাহিনী অফিসার রা রিকুয়েষ্ট করে জনগণকে আটকানোর পাশাপাশি আনসার পুলিশের সাহায্যে খুব দ্রুততার সাথে ফ্যাসিস্ট সরকারের তোশামোদের জন্য জত প্রকার বেনার ফেস্টুন ছিল তা নামিয়ে ফেলেন।



 আমি  ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার আন্দোলন, ফ্যাসিবাদের পতন ও স্বাধীনতার দ্বিতীয় অধ্যায় নিয়ে। অল্প কিছু লিখতে চেষ্টা করছি মাত্র। 

 *২০২৪: ছাত্র-জনতার আন্দোলন ও স্বাধীনতার দ্বিতীয় অধ্যায়*

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট — এই সময়টা শুধু ক্যালেন্ডারের কয়েকটি মাস নয়, এটি ইতিহাসের পৃষ্ঠায় লেখা এক অগ্নিঝরা অধ্যায়। এই সময়ে বাংলাদেশের ছাত্র-জনতা আবারও প্রমাণ করেছিল, এই দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হয় রাজপথে, সংগ্রামে, আন্দোলনে।

দীর্ঘদিন ধরে দেশে চলছিল একদলীয় স্বৈরতান্ত্রিক শাসন। গণতন্ত্র ছিল কাগজে-কলমে, বাকস্বাধীনতা ছিল সীমাবদ্ধ, ভোটের অধিকার ছিল প্রহসন। মানুষের কণ্ঠরোধ করা হচ্ছিল, সাংবাদিকতা নিস্পেষিত, বিরোধী মত দমন করা হচ্ছিল। ফ্যাসিবাদী শাসকগোষ্ঠী রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে দেশকে পরিণত করেছিল এক ভয়ের কারাগারে।

ঠিক তখনই ছাত্র-জনতা জেগে উঠল। জুলাই মাসের শুরুতে বিভিন্ন ক্যাম্পাসে, রাজপথে ছড়িয়ে পড়তে থাকে প্রতিবাদের আগুন। “ফ্যাসিবাদ নিপাত যাক, গণতন্ত্র মুক্তি পাক” শ্লোগানে মুখরিত হয় ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, সিলেট, খুলনা, বরিশাল। আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ ক্যাম্পাস।

ছাত্রদের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করে সাধারণ শ্রমিক, কৃষক, শিক্ষক, বুদ্ধিজীবী — এক অনন্য ঐক্য তৈরি হয় রাজপথে। আন্দোলন দমন করতে শাসকগোষ্ঠী আবারও দমনপীড়নের পথ বেছে নেয়। তবে ইতিহাস সাক্ষী, এই জাতি কখনও মাথা নত করেনি।

 *অবশেষে ২০২৪-এর ৫ আগস্টে পতন ঘটে ফ্যাসিবাদী শাসনের।*

শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে গণআন্দোলনের চাপ, ছাত্র-জনতার আত্মত্যাগ আর দেশের আপামর মানুষের দৃঢ় প্রত্যয়ে বিজয় আসে। স্বৈরতন্ত্রের শৃঙ্খল ভেঙে রচিত হয় *স্বাধীনতার দ্বিতীয় অধ্যায়*।


প্রথমবার আমরা ১৯৭১ সালে দেশ স্বাধীন করেছিলাম পাকিস্তানি দখলদারদের হাত থেকে। এবার দেশের অভ্যন্তরে জন্ম নেওয়া দখলদার ও শোষকদের হাত থেকে মুক্তির সংগ্রাম ছিল এটি। এই অধ্যায় শুধু রাজনৈতিক স্বাধীনতা নয়, সামাজিক ন্যায়বিচার, অর্থনৈতিক সমতা এবং মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার নতুন যাত্রা।

 *এই অধ্যায়ের শিক্ষা:*

* দেশের মালিক দেশের মানুষ

* ফ্যাসিবাদ যেখানেই হোক, তা প্রতিরোধ করতে হবে

* ছাত্র-জনতা ঐক্যই সকল আন্দোলনের মূল শক্তি

* রাজপথই পরিবর্তনের আসল ঠিকানা




আজ, এই ঐতিহাসিক আন্দোলন থেকে আমরা শিখি কিভাবে অন্যায়-অবিচারের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হতে হয়। আমাদের সামনে এখন নতুন দায়িত্ব — এই অর্জিত স্বাধীনতাকে টিকিয়ে রাখা, গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করা এবং একটি মানবিক রাষ্ট্র গঠন করা।



বৃহস্পতিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৪

দায়িত্বহীনতা: সমাজের অদৃশ্য বিষ

 আপনি কোথাও রাস্তার পাশে একটি দোকান দিলেন। ব্যাস্ততম রাস্তার পাশে। অনেক লোকজন এবং গাড়ি চলাচল করে রাস্তায়। আপনার দোকানে হালাল ব্যাবসা ই করছেন। কাস্টমার এর সাথে ও খুবই ভালো ব্যাবহার করেন। আপনার ব্যাবসায়ীক সম্পর্কে কখনো কারো সাথে অন্যায় কিছু করেন নি। সব কিছু ভালো থাকার পরে ও যদি আপনার দোকানের সামনে দাড়িয়ে কেউ দুর্ঘটনার শিকার হয়ে থাকে তা হলে সেই দায়বার আপনার হতে পারে। 

আপনি হয়তো ভাবছেন বা বলবেন যে দুর্ঘটনার জন্য তো সে লোকের অসাবধানতা দায়ি এখানে আমার দোষ কি ভাবে?তার উত্তর টা বিবেক দিয়ে দিতে গেলে আপনি যদি রাস্থার পাশে ঝুঁকিপূর্ণ স্থানে দোকান না করতেন তাহলে সে অখানে যেত না।আর দুরঘটনা ও ঘটতো না। তাই সে দুর্ঘটনার দায় আপনার।



দায়িত্বহীনতা: সমাজের অদৃশ্য বিষ

সমাজে বসবাস করা মানেই শুধু নিজের জন্য বাঁচা নয়, বরং আশেপাশের মানুষের জন্যও কিছু দায়িত্ব নিয়ে চলা। কারণ, আমাদের প্রতিটি কাজ, প্রতিটি আচরণ—চাই সে বড় হোক বা ছোট—পরোক্ষ বা প্রত্যক্ষভাবে অন্যের ওপর প্রভাব ফেলে। আর এই বিষয়টি বোঝার অভাব থেকেই জন্ম নেয় দায়িত্বহীনতা।

আজকাল আমাদের চারপাশে এমন অনেক উদাহরণ দেখা যায়, যেখানে কেউ নিজের দায়িত্ব এড়িয়ে চলে, আর তার খেসারত দিতে হয় অন্য কাউকে। রাস্তার ফুটপাত দখল করে রাখা হোক, খোলা ম্যানহোলের ঢাকনা না দেওয়া, কিংবা ট্রাফিক সিগন্যাল না মেনে যাতায়াত — এসব ছোট ছোট অবহেলাই বড় বড় দুর্ঘটনার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। আর যে দুর্ঘটনা ঘটে, তার দায় গিয়ে পড়ে সেই অবহেলাকারীর ঘাড়েই।

এমনকি সামাজিক বা পারিবারিক ক্ষেত্রেও এই চিত্র দেখা যায়। কোনো দায়িত্বপূর্ণ ব্যক্তির অবহেলার জন্য পরিবার ভেঙে যায়, সমাজে অশান্তি তৈরি হয়। অথচ, একটু সচেতন হলেই এসব এড়ানো যেত।

দায়িত্ববোধ শুধু নিজের কাজটা ঠিকভাবে করা নয়, বরং আশপাশের পরিস্থিতির প্রতিও খেয়াল রাখা। মনে রাখতে হবে, আমার অবহেলা হয়তো কারো জীবনে চিরস্থায়ী দাগ ফেলে দিতে পারে। আর সেই ক্ষতির দায় এড়ানোর সুযোগ নেই। কারণ, সমাজ একটা সাঁড়াশি বন্ধনের মতো, এখানে একের ভুলের প্রভাব পড়ে সবার ওপর।

তাই আমাদের প্রত্যেকের উচিত দায়িত্বশীল নাগরিক হয়ে ওঠা। নিজের কাজ নিজে করা, নিয়ম মেনে চলা এবং অন্যকে সচেতন করা। তাহলেই গড়ে উঠবে একটি নিরাপদ, শান্তিপূর্ণ এবং মানবিক সমাজ।

দায়িত্ব এড়ানোর নাম নয় জীবন। দায়িত্ব পালনের মাঝেই লুকিয়ে আছে শান্তি আর সত্যিকারের সামাজিকতা।

রবিবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৪

নতুন বাংলাদেশ।

.৫ আগস্ট ২০২৪ দুপুর ১২ টার আগে ও আমাদের কারো ই জানা ছিল না আমরা একটি নতুন বাংলাদেশ পেতে যাচ্ছি। নতুন এই বাংলাদেশ পাওয়ার আগ পর্যন্ত কেউ কল্পনা ও করার শাহস পায় নি আওয়ামীলীগ বিহিন নতুন এক বাংলাদেশের। এই দেশের বিগত ১৫ বছরের শাসন আমল কে কি ভাবে উপভোগ করেছেন? প্রশ্নের উত্তর দিতে হলে আপনি যদি আওয়ামীলীগ এর সাপোটার না হয়ে থাকেন তা হলে দিতে হলে আপনাকে অনেক কথা দিয়ে দিতে হবে। আর আওয়ামী সমর্থক হলে হয়তো এক কথায় উত্তর দিয়ে দিতে পারবেন। 



নতুন ভোর: ছাত্র-শ্রমিক-জনতার ঐক্যজোট ও ২০২৪ সালের অভুত্থানপরবর্তী বাংলাদেশ

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট মাসে বাংলাদেশ এক ঐতিহাসিক অধ্যায়ের সাক্ষী হলো। বছরের পর বছর ফ্যাসিবাদী দুঃশাসন, দুর্নীতি, নিপীড়ন আর বাক-স্বাধীনতার হরণে জর্জরিত মানুষ যখন দিশেহারা, তখনই ছাত্র, শ্রমিক ও সাধারণ জনতা একতাবদ্ধ হয়ে গড়ে তোলে অভূতপূর্ব এক আন্দোলন। এই গণঅভ্যুত্থান শুধু একটি সরকার পতন নয়, বরং একটি নতুন বাংলাদেশের জন্ম দিয়েছে — যে বাংলাদেশ স্বপ্ন দেখে সাম্য, মানবিকতা ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার।

ফ্যাসিবাদের শেষ দিন

দীর্ঘদিনের ফ্যাসিবাদী শাসনে দেশের মৌলিক মানবাধিকার বিপন্ন ছিল। গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রিত, বিরোধী কণ্ঠ রুদ্ধ, বিচারব্যবস্থা ছিল প্রভাবিত। দুর্নীতি, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি আর বেকারত্বে মানুষ যখন ক্ষুব্ধ, তখনই দেশের বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণ থেকে আন্দোলনের সূচনা হয়। ছাত্ররা রাজপথে নামে ‘গণতন্ত্র ফেরাও, মানবাধিকার রক্ষা করো’ স্লোগান নিয়ে। শ্রমিকরা যোগ দেয় ‘শ্রমের ন্যায্য মূল্য চাই, শ্রমিক নির্যাতন বন্ধ করো’ দাবিতে। আর সাধারণ জনতা নেমে আসে তাদের পাশে।

ঐক্যের জয়

এই আন্দোলনের অনন্য দিক ছিল সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের ঐক্য। শহর থেকে গ্রাম, ছাত্র থেকে কৃষক, নারী থেকে সংখ্যালঘু — সবাই একই পতাকা, একই স্লোগানে এগিয়ে আসে। ৫ আগস্ট, ২০২৪ তারিখে ঢাকার শাহবাগ, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান থেকে চট্টগ্রামের আন্দরকিল্লা — দেশজুড়ে লাখো মানুষ একযোগে অবস্থান নেয়। প্রশাসন ভেঙে পড়ে, দমন-পীড়ন থামিয়ে দিয়ে মানুষ নিজেদের দাবি আদায় করে নেয়।

নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন

অভ্যুত্থানের মাধ্যমে গঠিত হয় একটি অন্তর্বর্তীকালীন জাতীয় সরকার। যে সরকার দেশের বিচারব্যবস্থা স্বাধীন করে, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করে এবং নতুন সংবিধান রচনার উদ্যোগ নেয়। নতুন বাংলাদেশ গড়ার এই পথচলায় সর্বাগ্রে গুরুত্ব পায়:

  • গণতন্ত্রের পূর্ণ প্রতিষ্ঠা

  • মানবাধিকার সংরক্ষণ

  • শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি ও কর্মপরিবেশ

  • শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা সবার জন্য উন্মুক্তকরণ

  • দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন গঠন

ভবিষ্যতের প্রতিশ্রুতি

এই নতুন বাংলাদেশ শুধু একটি সরকার বদল নয়, বরং একটি সামাজিক ও রাজনৈতিক বিপ্লব। এখানে ক্ষমতা জনগণের, যেখানে রাষ্ট্রের প্রধান দায়িত্ব হবে নাগরিকের মর্যাদা ও অধিকার রক্ষা করা।

এই অভ্যুত্থান স্মরণ করিয়ে দিয়েছে — যখন ছাত্র, শ্রমিক, জনতা এক হয়, তখন কোনো ফ্যাসিবাদই টিকে থাকতে পারে না। এই বাংলাদেশ নতুন ভোরের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, যেখানে মানুষ কথা বলতে পারবে নির্ভয়ে, লেখক লিখতে পারবে মুক্ত মনে, শ্রমিক পাবে তার পরিশ্রমের সঠিক মূল্য আর ছাত্র খুঁজে পাবে এক উদার গণতান্ত্রিক সমাজ।

সেই প্রত্যাশায় বাংলাদেশের প্রতিটি নাগরিক।